অবশেষে ,ডা.আবু সাঈদকে গ্রেপ্তারে রিক্যুইজিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়!

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে করোনা পরিক্ষায় অনিয়মের দায়ে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার আবু সাঈদকে গ্রেপ্তারে রিক্যুইজিশন পাঠিয়েছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় পাঠানো হয়েছে এই রিক্যুইজিশন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন,বিনা অনুমতিতে করোনা টেস্টের স্যাম্পল নিচ্ছিলেন ঈশ্বরদীর রূপপুর মেডিকেয়ার ল্যাব।
আর এতে সহযোগিতা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আমরা সকল তথ্য হাতে নিয়ে মামলা করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করেই এ কাজ করেছে।

ওদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈশ্বরদী থানার ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
তিনি রিক্যুইজিশন পাঠিয়েছেন।তবে আমরা এখনো তা হাতে পাইনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, রিক্যুইজিশন হাতে পেলেই আমরা তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামবো।

তাছাড়া ঈশ্বরদী থানাকে বৃহস্পতিবার ডাক্তার আবু সাঈদের সংবাদ সম্মেলনের কথা জানানো হয়।
তিনি বলেন, একজন আসামি কি করে সংবাদ সম্মেলন করেন।

গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রূপপুরের মেডিকেয়ার ক্লিনিককে ‘বিশ্বাস করে’ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার কথা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে কিনা সেটি যাচাই না করে ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার কথা স্বীকার করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক আশাদুল্লাহ মিয়া, পিসিআর ল্যাব ইনচার্জ এস এম জুনায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন ডাক্তার আবু সাঈদ।

নির্দিষ্ট সময়ে তিনি এসেছিলেন সেখানে।
কিন্তু প্রেস ক্লাবে পুলিশের আনাগোনা দেখে তিনি সটকে পড়েন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেননি তিনি।
আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এর প্রতিবাদে এক জায়গায় বলা হয়েছে নিরবচ্ছিন্নভাবে ল্যাবের কার্যক্রম চলছে।
আবার অন্য জায়গায় বলা হয়েছে ল্যাব প্রধান ও সমন্বয়কের করোনা হওয়ায় ল্যাব সাময়িক বন্ধ ছিল।


যা পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়, প্রতিবাদপত্রেই দ্বিমুখী কথা বলা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ল্যাবের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা কি তাহলে চারদিনেই করোনামুক্ত হয়ে গেছেন? যেখানে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় সেখানে তারা চারদিনের মধ্যে যোগ দেয়া রহস্যকে আরো ঘনীভূত করেছে।
পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের দিন পর্যন্ত ল্যাবে তালা ঝুলছিল।


সেই চিত্রও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে রয়েছে।
এ রিপোর্ট প্রকাশের আগেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের অনিয়ম তদন্ত করছে।
তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার পীরকাশিমপুর গ্রামের সন্তান।

তথ্য সূত্রঃ দৈনিক মানব জমিন।