নবীনগরের মাটির গন্ধে আমার ভাবনা!

সুপ্রিয় নবীনগর উপজেলাবাসী–
আপনাদের সকলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো,শিক্ষা শান্তি ইতিহাস ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধ নবীনগর উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে আমরা নিশ্চয়ই গর্বিত ও দেশের সর্বমহলে প্রশংসিত!
আমাদের অর্জন ত্যাগ বীরত্বগাথা ইতিহাস দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে উদাহরণও বটে!!

দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নবীনগরের অনেক সূর্য সন্তান মেধা মনন ও প্রাজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছেন।
এমন সমৃদ্ধ উপজেলা বাংলাদেশের কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।

কি নেই আমাদের প্রাণের নবীনগরে ??
দেশসেরা রাজনৈতিক নেতা,ব্যবসায়ী,আমলা, অর্থনীতিবিদ,ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,সাংবাদিক,
কবি সাহিত্যিক,শিল্পপতি,সাময়িক বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,বরেণ্য ধর্মীয় আলোচক,ইতিহাসবিদ,দানবীর,সুফি সাধক,সুর ও ছন্দের জাদুকর সহ নানাবিধ পেশায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাড়ির টান ও মাটির গন্ধ আছে এই নবীনগরে!!

ক্রমান্বয়ে আমরা এখনো সেই ধারাবাহিকতার পথেই হাঁটছি।
দিনে দিনে এই নবীনগরে পাইপলাইনে রয়েছে সেসব উত্তরসূরী,যারা পূর্বসূরিদের দেখানো পথেই হাঁটছেন।
ক্রমাগত সকল সুচকে নবীনগর উপজেলার মান মর্যাদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে
কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছি এক যায়গায়!!

আমাদের এতো শান্তির মায়ের কোলে সামাজিক বেষ্টনীতে ঝড় বইছে!
শান্ত নবীনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কয়েক বছর যাবৎ অশান্তির কালো থাবা,আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার,রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন্দল,মর্যাদার লড়াই,প্রতিযোগিতার নামে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ দিন দিন আমাদের নবীনগরকে অস্থিতিশীল করে চলেছে।

কেউ কেউ এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক দূর্বলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।
আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক মতানৈক্যকেও উপরের ব্যর্থতার রশদও মনে করছেন।

একবারও আমাদের নিজেদের ভুলগুলো দেখতেও পাচ্ছি না,তা শুধরেও নিতে চাইছি না,অন্যের উপর দায় চাপিয়ে নিজেরা মহান নেতা,সমাজ সংস্কারক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে উঠেপড়ে লাগে আছি।

২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় সাত লক্ষ জনগণের নাগরিক সেবা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে আমাদের কয়জন পুলিশ আছে ??
প্রশাসনিক নির্বাহী কয়জন ???
যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিয়ে সমাধানের ব্যবস্থা নেবেন।

একজন এমপি,একজন উপজেলা চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস-চেয়ারম্যান,২১জন ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরা এবং একজন মেয়র ও কাউন্সিলরদেরই কি সব দায় দায়িত্ব বর্তায় ???

সাবেক এমপি সাহেবগণ,রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা,সাংবাদিক,সামাজিক,শিক্ষক, পেশাজীবী সহ বিভিন্ন সংগঠন ও একজন সাধারণ নাগরিকদের কি কোন দায় নেই ???
আমরা কি নবীনগরের বাসিন্দা বা অংশিদার নই ??

কেন ভুলে যায় আগে আমি পরে আমার পরিবার তারপর আমার সমাজ এরপর আমার গ্রামকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার আগে আমাদের দায়িত্ব!
অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমার আপনার সহায়ক শক্তি মাত্র।
নিশ্চয়ই তারা আমাদের জন্য জীবনের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবেন।
এটা তো সত্য যে
আমি নিজের ভালো চাই!
এটাও সত্য যে আমি নিজের সাথে সাথে পরিবারেরও ভালো চাই!!

ব্যাস এইটুকু কাজ তো নিজের জন্য নিজের পরিবারের জন্য করতে কোন অসুবিধা থাকার কথা নয়।
তাহলে তো আর সমস্যা হওয়ার কিছু নেই।
তবে এটাও ঠিক আমি নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের ভালো চাইতে গিয়ে যেন অন্যের অমঙ্গল,অন্যের ক্ষতি,অন্যের অসুবিধার কারণ না হই!
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যদি এই আন্তরিক প্রচেষ্টাটা চালু করা যায় তবে আমি নিশ্চিত একটি পরিবারের এই নিদর্শন অন্য পরিবারের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়াবে।

এযাবৎ কালে আমরা জনপ্রতিনিধি প্রশাসন ও পুলিশ সহ সকল সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করতে চেয়েছি ইউরোপ আমেরিকা আদলে,আর নিজের আচরণগুলো করে এসেছি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট দেশ আর ওসকল মানুষদের মতো।
এই মানুষিকতারও পরিবর্তন হওয়া উচিত।

বলতে অসুবিধা নেই!
সারা দেশের ন্যায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভরসার জায়গা স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদ।
জনগণকে কাছে থেকে সেবা দেয়া এই প্রতিষ্ঠানের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সরকারের উপরের মহলের নির্দেশে সেখানে আইনশৃংখলা রক্ষায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত কমিউনিটি পুলিশিং!

এই কমিটির কার্যক্রমকে একটু ঢেলে সাজিয়ে দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডে জড়িত করতে পারলে তার একটা ভালো ফলাফল আশা করা যায়।
কমিউনিটি পুলিশং কমিটির স্লোগানটাও অর্থবহ!
“পুলিশই জনতা,জনতাই পুলিশ”

এখন নবীনগর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক ৩০ সদস্যের কার্যকরী ও উপদেষ্টা পরিষদের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন পুলিশের নতুন আইজিপি জনাব বেনজির আহমেদ।
সেই ধারাবাহিকতায় নবীনগর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও নবীনগর থানা পুলিশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব কমিটি পূর্ণগঠন করা নিয়ে।

আমরা শান্তিপ্রিয় নবীনগরের আপামর জনতা ইচ্ছে করলে এই সুযোগে সমাজ গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য,নিবেদিত,মানবিক মানুষগুলোকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।

কেন জানি মনে হচ্ছে,প্রতিষ্ঠার এতো দিন পরে কমিউনিটি পুলিশং কমিটির কার্যক্রমকে বেগবান আর জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে।

আসুন আমরা আমাদের প্রিয় নবীনগর উপজেলার শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় দলমত নির্বিশেষে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক শিক্ষক যাদের সমাজে গ্রামে এলাকায় বেশ গ্রহণযোগ্যতা আছে,যারা পরিস্থিতি অনুধাবন করে বাস্তবিক ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখেন তাদেরকে কমিউনিটি পুলিশং কমিটির দায়িত্ব পালনে এগিয়ে দেয়।
নবীনগর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের ভালো থাকার পথটা সুগম করে দেই।
আমরা সংঘাত নয় শান্তি চাই!
আধিপত্য বিস্তার নয় সমঝোতা চাই!!

আপনাদের সকলের শুভকামনায়
———————————————
লেখক
এম কে জসিম উদ্দিন(সাংবাদিক)
সাংগঠনিক সম্পাদক
নবীনগর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি
নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।