রক্তাক্ত গণমাধ্যম!
বারবার নির্যাতিত!!

সারাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্বের নালিশ শোনে কে ?
জানি না কবে থেকে কি কারণে ক্রমাগত গণমাধ্যম কর্মীরা সমাজ পরিবার থেকে,সমাজ থেকে,এলাকা থেকে সর্বাপরি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল!

সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্রের বাকিসব প্রতিষ্ঠানের আয়না হিসেবে কাজ করার অধিকার দেয়া আছে গণমাধ্যমকে,যেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভুল ক্রটি সফলতা ব্যর্থতাগুলো পরিষ্কার দেখে রাষ্ট্র তার পরবর্তী করোনীয় নির্ধারণ করতে পারবে।
যেই আয়নায় একটি পরিবার,সমাজ এমনকি পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো ফুটে উঠবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়!
আজ রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল কল কাঠির রক্তচোহ্মের শিকার এই গণমাধ্যম।
একে তো গণমাধ্যমে বিভক্তি তার উপর দুর্বৃত্তদের মামলা হামলার শিকার এই জগতটি।
সেখানে এখন হায়েনাদের শিকার গণমাধ্যম কর্মীরা।
দিনে দিনে গণমাধ্যম কর্মীদের অবস্থা খারাপ হতে চলছে।

এখানে এমন কিছু মানুষের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় যারা গণমাধ্যমের অন্তরালে গ্রুপিং লবিং করে ইউনিটি তছনছ করে চলেছে।
এসব ঘৃণিত নরপশু গুলো অপকর্মকারীদের সাথে শখতা তৈরি করে নিজেরা অঢেল অর্থের মালিক হচ্ছেন,গণমাধ্যমে শত্রুদের সাথে আঁতাত করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

দিনে দিনে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে এই মূখোশধারীরা।
একদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি অন্যদিকে দূর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে ক্ষত বিক্ষত!
আমাদের দেশের এমন কোন জেলা আছে যেই জেলার গণমাধ্যম কর্মী রক্তাক্ত হয়নি ?
হামলা মামলার শিকার হতে হয়নি ??

বিগত দিনে আমরা দেখেছি গণমাধ্যম কর্মীরা শুধু নির্যাতিতই হয়নি,মামলা হামলা এমনি গুম হত্যাও হয়েছেন হর হামেশায়।
রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কর্তা থেকে জনপ্রতিনিধি সন্ত্রাসী মাদক কারবারী,ডাকাত চোর কোন সেক্টর কি বাদ পড়েছেন যারা গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে উদ্ধত হয়নি ??

কয়জন গণমাধ্যম কর্মী হত্যা গুম নির্যাতন মামলা হামলার বিচার পেয়েছে ??
কয়জন গণমাধ্যম কর্মী তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মিথ্যে মামলায় হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছে ??
কয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের পরিবার
দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে হত্যা গুম নির্যাতনের শিকার তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেয়েছেন ???

আফসোস হয়!
যখন দেখি সমাজের আয়না(সাংবাদিক)যখন সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে আহত নিহত ও নির্যাতনের পর অপরাধীদের পক্ষে সমাজ আইন আদালত অবস্থান করে!
দুঃখ পাই!
যখন মাদকমুক্ত দেশ গড়ার শ্লোগান দিয়ে আইন প্রশাসন জনতার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর তারাই সাংবাদিকদের মাদক কারবারীদের হাতে হেনস্তা করার হীন মানসিকতা প্রদর্শন করে!

স্তব্ধ হয়ে যায়!
যখন দেখি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী রিপোর্ট লেখার পর তারা বেআইনীভাবে মামলা হামলার শিকার হন,গুম খুন হয়ে যান।

নির্বাক হয়ে যায়!
যখন দেখি রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আক্রোশের বসত হয়ে মামলা হামলার শিকার সাংবাদিকরা আইন প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে তারা উল্টো হয়রানি করে!

এতো কিছুর পর কি কোন সভ্য মানুষ বলতে পারে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হয়ে কাজ করার স্বাধীনতা পাচ্ছে ?
দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাগিদে তারা নিরাপত্তা পাচ্ছে ?
বিচারের নামে প্রহসনের শিকার হচ্ছে না ?
একজন সাংবাদিক পরিচয়ে না হোক একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও বৈষম্যের শিকার হন না ?

অতিসম্প্রতি আমার নিজ উপজেলার প্রতিবেশী কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম চৌধুরীর উপর ঐ উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান কর্তৃক হামলার বর্বরতা,মামলার এফআইআর ও ২৪ ঘন্টায় জামিন।
এবং সেই সাংবাদিক নিজেকে মেরে ফেলার আর্তনাদ সকল বর্বরতাকে হার মানায়।

আশংকাজনক অবস্থায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করলো,ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ তুলেছেন তাতে মনে হলো রহস্যের ভেড়াজালে ম্লান হতে চলছে শরীফুল আলম চৌধুরী,তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার পাওয়ার ফরিয়াদ!

এতো গুলো জাতীয় পত্রিকায়,স্থানীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে যেভাবে সাংবাদিক নির্যাতনের রিপোর্ট হয়েছে তাতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানিক চেয়ারগুলো বিষয়টি এতো হাল্কা মনে করলো কিভাবে আমার জানা নেই।

আমার কেন যেন মনে হয়!
ভুল করেছেন শরীফুল আলম চৌধুরী!
চেয়ারম্যানের অনৈতিক বিষয়গুলো তোলে ধরা ছিল প্রথম ভুল,দ্বিতীয় ভুল করছেন সমাজ পরিবর্তনের জন্য লেখালেখি করা,তৃতীয় ভুল করেছেন তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী!
বাবা মতিন চৌধুরীর ভুলটা আমার কাছে বেশি মনে হচ্ছে।

তিনি একে তো দেশ স্বাধীন করতে অস্ত্র ধরে,অন্য হলো সেই স্বাধীন দেশে বিচার চেয়ে।
তিনি হয়তো জানেন না উনাদের অর্জিত স্বাধীন রাষ্ট্র পরাধীনতার গ্লানিকে হার মানায়!!

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী বোধহয় এখনো বুঝতে পারছেন না যে উনাদের সাংবাদিক ছেলেরা আজ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন,ওরা দেশের কল্যাণে কাজ করলেও দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তারা তাদের কাজে ভীষণ ভেজার ও নাখোশ।
উনারা গণমাধ্যমকে কন্ঠরোধ করে রাষ্ট্রের উপর চেপে বসতে চায়।
উনার ছেলে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা।
সেখানে বিচার বিভাগকে আইনের ফাঁক দেখানো লোকেরও অভাব নেই।

উনি জানেন না দেশের মানুষের যেই জীবন ব্যবস্থা উপহার দিতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছেন সেখানে কালো আঁধার বইছে।
মুখোশধারী দালালরা সাংবাদিকদের বিভেদ সৃষ্টি করে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে,ওরা সাংবাদিকতা নিজেকে উপরে উঠতে শিড়ি হিসেবে নিয়েছেন।
ওরা রাষ্ট্রের বড় বড় চেয়ারদের তাঁবেদারি করতে ব্যস্ত।
কিন্তু প্রকাশ্যে নীতিবান বলে রাতের অন্ধকারে মনুষ্যত্বকে জবাই করছে।

সেখানে শরীফুলের মতো আরো কিছু সাংবাদিক বলী হলেও তাদের কিছু হবে না,তারা সাংবাদিক নেতা বনে যাবেন কিন্তু সাংবাদিক রক্ষায় কোন ভুমিকা থাকবে না।

এক সপ্তাহ না পেরোতেই দেবীদ্বার উপজেলায় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রতিনিধি শাহিন আলম এর উপর হামলা,আমার নবীনগর উপজেলায় সলিমগঞ্জে দৈনিক দেশ সংবাদ প্রতিনিধি আক্তারুজ্জামান এর উপর নিজ এলাকার সম্মানিত সংসদ সদস্যের এপিএস এর ছোট ভাই জালাল শিকদার এর অনৈতিক কাজের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আমরা নির্বাক হওয়া ছাড়া আর কি করার থাকে।
অথচ আমাদের সংসদ সদস্য নিজেও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য।
উনার এপিএস এর ছোট ভাই এমন কান্ড করতে পারলেন সেটা শুধু নিন্দনীই নয় লজ্জাজনকও বটে।

নবীনগরে এটা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিষয়টি সম্মানিত সংসদ সদস্য নিষ্পত্তি করবে বলে আশ্বস্ত করেন।
স্থানীয় গণ্যমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে বিভাজন ঠিকই তবে এই বিষয়ে তুলকালাম কান্ড হতো এতো দিনে যদি এমপি সাহেব এর দায়িত্ব গ্রহণ না করতেন!

ইতোমধ্যে এই শিকদার পরিবারের কার্যকলাপের একটা ফিরিস্তি গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য ভান্ডারে জমা হয়েছে।
আমরা এমপি সাহেব এর সম্মানে চুপচাপ হয়ে আছি।
এভাবে আর কতদিন চলবে ?
দেশ ব্যাপী দিনের পর দিন গনমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ কতটুকু যৌক্তিক ??

যদিও গণমাধ্যম কর্মীরা ভুল শুদ্ধের উর্ধ্বে নয়,তারা যদি কোন ভুল করে থাকে তবে তার বিচার করার জন্য দায়িত্বশীল মাধ্যম আছে,আইন ছিল তবু গণমাধ্যমকর্মীরা রক্তাক্ত কেন !!

লেখক
এম কে জসিম উদ্দিন
দৈনিক ভোরের কাগজ
নবীনগর(ব্রাক্ষণবাড়িয়া)প্রতিনিধি

সম্পাদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন ডটকম,বাংলাদেশ সংবাদ 24 ডককম