লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত দুজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়,এলাকায় শোকের মাতম!!

অনলাইন ডেস্ক—-

লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরনে এ পর্যন্ত মারা গেছে দুইজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা।
একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে রনি(২৫) অন্যজন হচ্ছে কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের জাজিসার গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার ছেলে রাসেল (২২)

লেবাননের ইতিহাসে সবচেয়ে রর্বচিত হামলার শিকার হয়ে এই দুই তরুণ নিহতের সংবাদ দেশে পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছলে এলাকায় শোকের মাতম চলে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রনি।
গ্রামের একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর পরিবারের হাল ধরতে বিদেশ পাড়ি জমান। সুদে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ই মার্চ লেবাননে যান রনি।
অন্য দিকে তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসেল সবার ছোট।
প্রায় চার বছর আগে রাসেল লেবানন পাড়ি জমান। তার বড় ভাই সাদেকও লেবাননেই থাকেন।
রাসেল বৈরুতের একটি তেলের পাম্পে চাকরি করতেন।

রনির পরিবার স্তব্ধ হয়ে জানান রনিই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।
বৈরুতে একটি বিপণিবিতানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি।
প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে পারতেন বাড়িতে। কিন্তু এতো অল্প বেতনের টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না।
এখনও সুদের দুই লাখ টাকার মতো ঋণ পরিশোধ বাকি আছে তার। এই মার্চ মাসেই দেশে আসার কথা ছিলো তার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।

কাজ বন্ধ থাকায় বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। লেবাননে আয়-রোজগার কম হওয়ায় অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন রনি। বাড়ির সবাইকে বলেছিলেন অনুমতি দেয়ার জন্য। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ না হওয়ায় বাড়ি থেকে অনুমতি মিলেনি।
অভিমান করে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন ছোট বোন জেসমিন আক্তার হ্যাপিকে।

কিন্তু নিয়তি রনিকে নিয়ে গেছে  না ফেরার দেশে। অন্য দেশে যাওয়ার কথা বলে এতো দূরে যে চলে যাবেন সেটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ।
এসব কথা তুলে ধরে কান্নায় লুটিয়ে পড়ছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার লেবাননের বৈরুতে  বিস্ফোরণে  মারা যান রনি। এই খবর পাওয়ার পর থেকে বাবা তাজুল ইসলাম আর মা ইনারা বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কান্নার রোল উঠে বাড়িতে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রনি। কান্না থামছে না ভাইবোনদের।

রাসেলের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসেল সবার ছোট। প্রায় চার বছর আগে রাসেল লেবানন পাড়ি জমান। তার বড় ভাই সাদেকও লেবাননেই থাকেন। রাসেল বৈরুতের একটি তেলের পাম্পে চাকরি করতেন।
এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়া গুরুতর আহত হয়ে বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা-মা বারবার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।