নবীনগরে ২৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে টালবাহানা, জনগণের ভোগান্তি, দেখার কেউ নেই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর মহেশ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ২২ কোটি ৩৩লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বিটঘর বাজার থেকে মহেশ রোড হয়ে কুড়িঘর বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণে সড়কগুলো বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ভাঙা সড়কে এখন শত শত সিএনজি,অটোরিকশা,টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কবে শেষ হবে বিটঘর মহেশ প্রধান সড়ক নির্মাণ কাজ তা জানা নেই করো।

বেহাল রাস্তা দিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। তাই বিটঘর মহেশ প্রধান সড়ক নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর । দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫( নবীনগর)আসনে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল এর প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) অধীনে বরাদ্দ আসে ২২ কোটি ৩৩লাখ ৭৩ হাজার টাকা কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের (মে) মাসে এখন চলছে সেপ্টেম্বর মাস,কাজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সত্ত্বেও লকডাউন সহ বিভিন্ন অজুহাতে গড়িমসি করে ঠিকাদার প্রতিষ্টান, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে শুরু হয় রাস্তা কাজ। কাজের নেই কোন অগ্রগতি কচ্ছপ গতিতে চলছে বলা যায়।

সিডিউল অনুযায়ী টেন্ডার এর মাধ্যমে ২০১৯ নভেম্বর
কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ (জেভি)- বিটঘর বাজার থেকে মহেশ রোড হয়ে কুড়িঘর বাজার পর্যন্ত ১২ হাজার ২৫০ মিটার রাস্তা ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

এলাকাবাসী জানান, ছোট-বড় গর্তের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা মুশকিল হয়ে পরেছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখানও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তাদের গাফিলতির কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিটঘর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, বিটঘর মহেশ সড়ক ব্যবহার করে ছয় ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাটি চলাচলের অনুপয়োগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম, কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে ৫ মাসের সময় নিয়েছেন। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে যথেষ্ট তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।