সৃষ্টিশীল কর্ম জড়ায়ু’তে মাতৃত্ব শিল্পীমনকে নাড়িয়ে দিয়েছে!!

নিজস্ব প্রতিবেদক—

“জরায়ু’তে মাতৃত্ব” অসাধারণ শিল্পকর্মের জনক সংস্কৃতির রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জাফরপুর গ্রামের সন্তান,উদীয়মান চিত্রশিল্পী জাহেদুর রহমান রবিন।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার এই সন্তান সেই ছেলে বেলা(ছাত্রজীবন)থেকেই এলাকায় বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন সাইনবোর্ড দেয়াল লিখনে অসাধারণ মনোবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন বহুবার।

এলাকার সৃষ্টিশীল মুক্তামনা মানুষগুলোর কাছে সেদিনই তাঁর ছোট ছোট শিল্পকর্মগুলো আশার সঞ্চার করেছিল।

অনেকেই সেদিন ভাবতে শুরু করেছিল আসলেই সে একটা জিনিয়াস।
একদিন সে অনেক বড় চিত্র শিল্পী হবে।

এই রবিনও বেমালুম পড়ে থাকতে দেখা গেছে ছবি আঁকা নিয়ে,ধীরে ধীরে তার শৈল্পিক ভাবনায় যুক্ত হতে শুরু করলো মানুষের সভ্যতা,সৃষ্টি উৎকর্ষতা, সুন্দরের লাবণ্য!
এরই মধ্যে সে প্রবাসী পাড়ি জমান জীবিকার তাগিদে।

মধ্যপ্রাচ্যের মরুপ্রান্তর,ইটের দেয়ালে আর উত্তাপ রোদের বৈরী আবহাওয়া তাকে শৈল্পিক অনুভুতির দেয়ালে কোন রকম চিড় ধরতে পারেনি।

পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন আর কর্মের বেড়াজালেও অবরুদ্ধ হয়নি তার রং তুলি!
কাজের মাঝে মাঝে এঁকেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে হৃদয় জুড়ে যাওয়া প্রিন্টিং!

তুলির রংয়ে জ্বলে উঠেছে মানবতা বিসর্জিত কামনা বাসনা,জন্ম উৎস আর রিক্ত চাহনির অসভ্য কর্কসতাও।
অসাধারণ কারুকার্য খচিত চিত্রকর্ম সেসময় স্থান পেয়েছে যায় সাহারার প্রান্তর দুবাই ন্যাশনাল মিউজিয়ামে।
সুন্দরের পূজারী জাহেদুর হয়ে উঠেন তারুণ্যদীপ্ত একজন সম্ভাবনাময় চিত্রশিল্পী।

তাহার অসাধারণ কিছু কর্ম বাংলাদেশের ক্ষ্যাতনামা কিছু লেখকের লেখা বই উপন্যাসের প্রচ্ছদ ছবি হিসেবে স্থান পেয়ে যায়।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক তরুণ প্রজন্মের একজন উদীয়মান চিত্রশিল্পী হিসেবে তার বেশকিছু সৃষ্টিশীল কাজ কয়েকবার মৌলবাদীদের ঘাঁটিতে ভয় ধরিয়ে দেয়।
তার তাকে বিভিন্ন ভাবে হেয় করার পাশাপাশি জীবন নাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
তবুও তিনি আপোষহীন ভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন বরাবর।

নিজেকে কখনো জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী করে গড়ে তোলার বদলে তিনি একজন মানসম্মত বাস্তববাদী গ্রহণযোগ্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে চলেছে অদ্যাবদি।

দেশ বিদেশে বন্ধু বান্ধব,শুভানুধ্যায়ী,ভক্ত ও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাহার অজস্র শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হচ্ছে নিবরে নিভৃতে।
যার মধ্যে অন্যতম সেরা একটি সৃষ্টি হলো “জড়ায়ু’তে মাতৃত্ব”
যেটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তিনি ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন।
তিনি সেই সুস্থ মনুস্তাত্বিক শিল্পটি নিলামে বিক্রি করতে চেষ্টা করেন।

অতিসম্প্রতি ইকো গ্যালারি নামের একটি প্রতিষ্ঠান চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও বিক্রির আয়োজন করে।
এই প্রদর্শনীতে সর্বোচ্চ মূল্য আটশো দেরহাম,যা বাংলাদেশী অর্থে এক লক্ষ চুরাশি হাজার আটশো টাকায় বিক্রি হয়েছে “জরায়ু’তে মাতৃত্ব” শিরোনামে আঁকা জাহেদ রবিনের একটি চিত্রকর্ম।

তাহার এই অসাধারণ চিত্রকর্মটি ক্রয় করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত(ইউএসই) প্রবাসী অতসী তনি নামে একজন ব্যবসায়ী।

“জরায়ু’তে মাতৃত্ব” চিত্রকর্মটি বিক্রির খবর প্রকাশ হওয়ার পর শিল্পীর জাহেদুর রহমান ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিদিন ডটকম কে বলেন ” সময়ের এই সফলতা আমার আগামী দিনের পথ চলার পাথেয় হয়ে থাকবে।

“জরায়ু’তে মাতৃত্ব” চিত্রকর্ম বিক্রির এই অর্থ আমাকে এনে দিয়েছে আগামী দিনে সৃষ্টিতে মেতে থাকার সাহস শক্তি ও অনুপ্রেরণা!
আমি এক জীবনের বাকিটা সময় রং-তুলি কে সাথী করেই বেঁচে থাকতে চাই”।